Biztrade Logo

Registered User: 2000

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সাফল্যের সম্ভাবনা

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কি? 

বর্তমান বাংলাদেশের রপ্তানিতে আর্থ সামাজিক অবস্থার মান পরিবর্তনে আরও উন্নত হওয়ার এক অন্যতম ধারক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য। দেশের এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতে যেসব পণ্য গুলো রয়েছে সেগুলো হল, বাই সাইকেল, মোটরবাইক, অটোমোবাইল, অটোপারটস, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি, সোলার ফটোভল্টিক মডিউল এবং খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি উল্ল্যেখযোগ্য পণ্য। এসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে রপ্তানিতে ব্যাপক চাহিদা পরিলক্ষিত করা যায়।

২০২০ সালে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যকে জাতীয়ভাবে “বর্ষ পণ্য” হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই রপ্তানি খাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং সেই সাথে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং রপ্তানি বানিজ্যকে আরো গতিশীল করবে। তিনি আরো জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ ১৭ কোটি ভোক্তার বাজার নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশপথ হওয়ায় অন্তত ৪ কোটি নির্দিষ্ট ভোক্তার সাথে সংযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ কার্যকর ভূমিকা রাখতে যে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে যে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সরকারকেও সমান তালে অগ্রসর হতে হবে প্রধান গাইডার হিসেবে। এ নতুন সিদ্ধান্ত যেন কোনোভাবেই সিস্টেমলসের মধ্যে নিযুক্ত না হয়। কেননা, পূর্বের অভিজ্ঞতাস্বরুপ এই সিস্টেমলসের আওতায় পরে অনেক বড় বড় সম্ভাবনা অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে, মাঝপথে আটকে গেছে অথবা কোন না কোনভাবে শেষ অবধি পৌঁছাতে পারেনি। তাই এ কারণেই মাননয়ীয় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেছিলেন তার প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কথা, সেই সাথে বানিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য উন্নয়নের খাতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কোন কোন দেশে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের চাহিদা রয়েছে?

বিজনেস ইনিসিয়েটিভ লীডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, ফেরদৌস আরা বেগম বলেছেন, শুধুমাত্র পাঁচটি দেশ চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সিঙ্গাপুর ও জাপান ২.৫১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য আমদানি করে এবং বাংলাদেশ এই রপ্তানি বাজারের গন্তব্যস্থলে সংযোগস্থাপন করতে উপভোগ করে।তিনি আরো বলেন, আমরা যদি এই গন্তব্যগুলির ১ শতাংশ রপ্তানি করি, তবে ২৫ বিলিয়ন ডলার বছরে আয় করতে সক্ষম। 

এই রপ্তানি খাতটি বর্তমানে কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং জিডিপি তে ৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং বিপুল সম্ভাবনাময় এই খাতকে সমর্থন অব্যাহত রাখতে সকারের প্রতি আহ্বান জানান। অনুমান করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই রফতানি খাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অধীনে ১২.৫৬ বিলিয়ন রপ্তানি আয় হবে যা বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন প্রয়োজন। 

আশার বানি হল, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বান্ধবনীতি, বাংলাদেশের পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকাংশে আকর্ষিত করছে। সুতরাং, এই সুবিধাটি আমাদের দেশের জন্য অন্যতম সুযোগ বয়ে আনবে। এই রপ্তানি খাত এখন শুধুমাত্র সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষায়।

কেন এই খাতে বিনিয়োগ করবেন?

লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরটি যেহেতু নতুন সম্ভাবনার আলোকবার্তা নিয়ে আমাদের দেশে এসেছে, সেহেতু এই খাতে বিনিয়োগ কখনও বিফলে যাবে না। শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রচারে আহ্বান জানান। কেননা, “প্রচারেই প্রসার”; এই খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনো এর বৈদেশিক চাহিদা ও মূল্য সম্পর্কে এখন অবহিত হতে পারেন নাই। তাদেরকে অবহিত করতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনসংস্থাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া তিনি আরো জোড় আরোপ করে জনান, “এই সেক্টরের জন্য বাংলাদেশ খুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে একটি পৃথক শিল্প পার্ক স্থাপনের উপায়গুলি অন্বেষণ করার সময় এবং ১২ বিলিয়নের অভ্যন্তরীণ বাজার শেয়ার করার জন্য, বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সময় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করবো।“ সুতরাং এ দ্বারা বুঝতে পারা যায় যে, এই সেক্টরে বিনিয়োগ করলে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মদেরও বেকারত্ব দূরীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।  

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালক ড. মফিজুর রহমান একটি বৈঠকে বলেন যে তারা বর্তমানে লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে এসএমই-কে প্রমোট করতে এগিয়ে নিতে একটি ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইন তৈরি করছে। এবং তিনি আরও জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য কাঁচামাল ও আনুষাঙ্গিক আমদানিতে কর-সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) এর সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এর নির্দিষ্ট উপ-খাত চিহ্নিত করার এবং সে অনুযায়ী প্রণোদনা পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অতএব, উপোরোক্ত আলোচানা শেষে বলা যায়, লাইটিং ইঞ্জিনিয়ারিং রপ্তানি খাতটি আমাদের দেশের জন্য একটি সুগঠিত সম্ভাবনাময় পথ, যা দ্বারা প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান নিযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জিডিপি তে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার বাড়বে এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *