Biztrade Logo

Registered User: 2000

ই-বিজনেস

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (International Business Machines) অথবা আইবিএম (IBM) একটি প্রতিষ্ঠান যা সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। আইবিএম এর মতে যে ব্যবসা বা বাণিজ্যে কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পণ্য ক্রয়- বিক্রয় করা হয় তাকে ই-বিজনেস বলে। আজকাল বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানই ই-বিজনেস দ্বারা সংগঠিত ও পরিচালিত এবং নতুন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান  উৎপাদন ও মুনাফা অর্জন বৃদ্ধিতে ইন্টারনেট ও ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে।

ই-বিজনেস দ্বারা পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াও উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহক সেবা লেনদেন, দেশ- দেশান্তরে পন্য সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি, বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে ব্যবসায়িক কার্যসম্পাদ ইত্যাদি করা হয়ে থাকে এবং মানুষ এতে অনেক সুবিধা পেয়ে থাকে।

ই-বিজনেস কি কাজে প্রয়োজন হয়?

আপনার তথ্য আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে অনেক ডাটা বা ইনফরমেশন আপনার কম্পিউটারে জমা হয়ে থাকে। এসব ডাটা বা ইনফরমেশনে আপনার ব্যবসায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে যা আপনি ছাড়া আর কেউ না দেখুক বা জানুক এবং সেগুলো সুরক্ষিত থাকে। আপনি প্রতিদিন কার সাথে কখন, কোন সময়, কোন সাইট থেকে কথা বলছেন, কি নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সম্পাদন করছেন সব কিছু আপনার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে। এসব সংরক্ষিত তথ্য আপনার বিপদে বা যেকোনো প্রয়োজনীয় সময়ে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।

ই-বিজনেস এর কাজ সম্পাদন করতে কি দরকার হয়?

ই-বিজনেস এর কাজ সম্পাদন করতে ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়, যেমন- সফটওয়্যার, মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট অথবা এদের সংমিশ্রিত রুপ। এছাড়া এই ই-বিজনেস এর মাধ্যমে ভোক্তার কাছে নিজের পণ্য বা সেবা পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ই-কমার্স, ই-মার্কেটিং ও ই-রিটেইলিং প্রভৃতি।

ই-বিজনেস এর বৈশিষ্ট্য কি কি?

ই-বিজনেস কিছু মৌলিক ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যেমন- ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ওয়েবসাইটের ব্যবহার, যেকোনো জায়গায় ই-বিজনেস পরিচালনা, সর্বোচ্চ সেবা নিয়োগ, বিশ্বব্যপী পরিচালনা, দ্রুত কাজ সম্পাদন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সহজাত প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা, ইত্যদি।

ই-বিজনেস এর পদ্ধতিগুলো কি কি?

ই-বিজনেস ভৌগলিক গন্ডি পেরিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সম্মিলিত ভাবে সম্পন্ন করছে। এইসব ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে হতে পারে যা আমরা ই-বিজনেস মডেল বলে থাকি এবং তা ই- কমার্সের আওতাভুক্ত। ই- কমার্স হলো ই- বিজনেস এর একটি অংশ।

ই- কমার্স অনেক ধরণের হতে পারে: 

১। ব্যবসায় থেকে ব্যবসায়/ business-to-business (B2B) –

ব্যবসায় থেকে ব্যবসায় মডেলটি হচ্ছে পাইকারি ব্যবসার মত, যেখানে ব্যবসায়িরা অন্য ব্যবসায়িদের নিকট পণ্য বিক্রয় করেন এবং দু পক্ষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। উদাহরণ- http://www.alibaba.com 

২। ব্যবসায় থেকে ভোক্তা/ business-to-consumer (B2C) –

ব্যবসায় থেকে ভোক্তা মডেলটি হচ্ছে খুচরা ব্যবসার মত, যেখানে ব্যবসায়িরা সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করেন। অথবা  যেখানে ব্যক্তি বা ভোক্তা, ব্যবসায়ীর বা সরবরাহকারীর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন। উদাহরণ- http://www.amazon.com 

৩। ভোক্তা থেকে ভোক্তা/ consumer-to-consumer (C2C) –

ভোক্তা থেকে ভোক্তা মডেলের ব্যবসার ক্ষেত্রে একজন ভোক্তাকে সরাসরি অন্য ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকে। উদাহরণ-  http://www.ebay.com

৪। ভোক্তা থেকে ব্যবসায়/ consumer-to-business (C2B) –

 ভোক্তা থেকে ব্যবসায় হচ্ছে একজন ব্যাক্তি তার পণ্য ও সেবার বিবরণ পোষ্ট করেন এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উক্ত পণ্য বা সেবার ক্রয় করে থাকেন। উদাহরণ- http://www.monster.com

ই- বিজনেসের উপাদান গুলো কি কি?

আপনি যখন ব্যবসায়ের শুরুতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আপনি কোন ই-বিজনেস মডেলটি অনুসরণ করবেন, তখন পরের কার্য সম্পাদন কি হতে পারে তা নিয়ে আপনার ্মস্তিষ্কে ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিছু উপাদান আছে যা একটি ই- বিজনেজের ই কমার্স ও ই- মার্কেটিং এ ভিত্তিপ্রস্তর তৈরিতে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে, নিম্নে তা উল্ল্যেখ করা হলঃ 

পণ্য ও সেবাঃ 

আপনার ব্যবসায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল পণ্য বা সেবা, যার মান ও চাহিদা সবসময় আপনাকে নির্ণয় করতে হবে। পণ্য কার কাছে বিক্রি করবেন, কিভাবে বিক্রি করবেন, কতটুকু বিক্রি করবেন, কতটুকু বিক্রি করলে কি পরিমাণ লাভ হতে পারে তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা এবং সেসকল ডকুমেন্ট বা দলিল সমূহ লিপিবদ্ধ করুন। এতে আপনার ভবিষ্যতের কার্য নির্বাহে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

বাজার বিশ্লেষণ :

ব্যবসায়ের জন্য বাজার বিশ্লেষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বাজার প্রতিনিয়ত তার রুপ বদলাতে পারে সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিবর্তনের কারণে। সেজন্য একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক হতে হলে এ সমস্ত সকল পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। কেননা, আপনার পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে গেলে সেটির ভোক্তা চাহিদা, বাজারে এর অবস্থান ও আয়তন ইত্যাদি বিষয়গুলো বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

বিনিয়োগঃ

অনেকের ধারণা, “অনলাইনে বিজনেস করবো, এতে কি আর এমন বিনিয়োগের প্রয়োজন?”। আপনি যখন অনলাইন বিজনেস করবেন সেখানেও আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে। আপনি যে একটি প্ল্যাটফরম থেকে আপনার ভোক্তাদের কাছে পৌছাবেন, সেজন্য আপনাকে প্রথমে একটি ওয়েবসাইট, একটি সোশাল প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে। ভোক্তাদের কাছে পণ্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এতে সব মিলিয়ে ব্যবসায়ে বিনিয়োগের অবস্থান বের হয়ে আসে। বিনিয়োগের ব্যবস্থাপনার সকল বিষয়ের প্রতি এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

সম আয়-ব্যয় বিন্দু বিশ্লেষণঃ

অর্থনীতি ও ব্যবসায়- এই দুইটি প্রাঙ্গণে ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণটি সমানভাবে গুরুত্ব বহন করে। ব্যবসায়ে সবসময় একটি নির্দিষ্ট বা স্থায়ী খরচ ও অপরটি অপরিবর্তনীয় খরচ থাকে। এ সকল খরচ আপনার পণ্য বা সেবা বিক্রির পরে মুনাফা অর্জনের পর ব্যয় পূরণ করতে সক্ষম হয় তা এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝা যাবে। এছাড়া প্রতি বছরে, প্রতি মাসে কতখানি লাভজনক হচ্ছে আপনার এই ব্যবসাটি তা এই পর্ব থেকে তথ্য পাওয়া যায়।

বিপণন কৌশলঃ 

আমরা উপোরোক্ত আলোচনায় বলেছি বাজার বিশ্লেষণের গুরুত্বের কথা। আপনার ব্যবসায়টিতে কি কৌশল অবলম্বন করলে তার বিপণন প্রক্রিয়া পরিসর হবে, সেটা হল “প্রচারেই প্রসার”। প্রতিদিন মানুষের রুচি ও চাহিদার পরিবর্তন ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে বাজারে আপনার ব্যবসাটি ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত রিসার্চ করতে হবে ও প্রয়োজনের সাপেক্ষে পণ্য বা সেবার মান পরিবর্তন আনতে হবে। 

আর এই জন্য বিপননের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হতে হয়। ইকমার্সের ক্ষেত্রে Online Marketing বেশি ফলপ্রসু।

মুল্য নির্ধারণঃ

বাজারে পণ্য উঠানোর পর বিক্রেতার প্রধান উদ্বিগ্ন হওয়ার মূল কারণ হল তার পণ্য বা সেবা প্রতিদিন কি পরিমান বিক্রি হচ্ছে। আর এই বিক্রিত সেবা বা পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকের আকর্ষণ। গ্রাহকের আকর্ষণ যত বাড়বে, পণ্য তত বিক্রি হবে। এই সেবা বা পণ্য মূল্য নির্ধারণের পূর্বে লাভ হিসাব সংযোজন করতে হবে উৎপাদন ব্যয়, স্থায়ী খরচ, পরিবহন খরচ, অন্যান্য ব্যয় ইত্যাদি হিসাব করার পর।

সঠিক ব্যবস্থাপনাঃ 

একটি ব্যবসায়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এনে দিতে পারে অনাকাংখিত সাফল্য। যদি সেখানে থাকে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য দক্ষ, কঠোর পরিশ্রমী, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, অধ্যবসায়ী কর্মচারীবৃন্দ। ব্যবসায়ের স্থায়ীত্ব, মুনাফা অনেকাংশে নির্ভর থাকে সঠিক ও সুষ্টু ব্যবস্থাপনার ওপর। ই বিজনেসে আমরা সাধারনত দেখি সার্ভার নিয়ে অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা অথবা কারিগরি দক্ষতা না থাকার কারণে মূলতঃ এ ঘটনাটি ঘটে। সুতরাং, ই বিজনেসে সার্ভার ব্যবস্থাপনা, পোর্টাল ব্যবস্থাপনা, কাষ্টমার ব্যবস্থাপনা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ করুন।

সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা বা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টঃ 

ই বিজনেসের প্রধান প্ল্যাটফরম হল অনলাইন শপ। এই অনলাইন শপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাপনা। ভোক্তার কাছ থেকে পণ্য অর্ডার নেয়া থেকে শুরু করে পণ্য সররাহ করা পর্যন্ত যাবতীয় কার্য সম্পাদন করতে, এছাড়া কিছু ভোক্তার ফেরতযোগ্য পণ্য সংরক্ষণ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার ভূমিকা অপরিহার্য। পরিবেশের ক্ষতি না করে, জ্বালানি খরচ কম করে, কম সময়ে কত দ্রুত ও কার্যকর পন্থা অবলম্বন করলে সবচেয়ে বেশি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা-ই হল সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য। এতে করে আপনি যথাসময়ে পণ্য বিক্রয়ের হিসাব রাখতে সক্ষম হবেন।

পেমেন্ট সিস্টেমঃ

আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন সবাই অনলাইন ব্যাংকিং অথবা মোবাইল অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিয়ে থাকেন। এই অনলাইন ভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের সুবিধা হল কোন ক্রেতা কবে, কখন এবং কত টাকার পণ্য ক্রয় করেছেন তা সার্ভার ডেটাতে উল্ল্যেখ বা সংরক্ষিত থাকে। আপনি যখন আপনার ব্যবসায়ের বাজার ব্যবস্থা, আয়তন ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত হবেন, তখন আপনি লেনদেন পদ্ধতির উপোযোগিতা ও প্রাপ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনার বিবেচনায় চলে আসবে। অতএব সব কিছু বিবেচনা করে আপনি আপনার ব্যবসার জন্য উপযুক্ত লেন্দেন পদ্ধতি বেছে নিন।

উপরোক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, প্রতিদিন অনলাইন ব্যবসায়ে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য ও ধরণ দেখা যায়। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে দক্ষতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে চারপাশের ব্যবসায়িক অবস্থান সম্পর্কে চোখ, কান খোলা রাখতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *