Biztrade Logo

Registered User: 2000

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স

ট্রেড লাইসেন্স কি? 

বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ট্রেড লাইসেন্সে এর প্রারম্ভিক আগমন হয় “সিটি করপোরেশন কর বিধান- ১৯৮৩” মাধ্যমে। ট্রেড লাইসেন্স হল এমন একটি দলিল যা কিনা ব্যবসা শুরু করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেড লাইসেন্স এর আক্ষরিক অর্থ হলঃ ট্রেড অর্থ ব্যবসা আর লাইসেন্স অর্থ বানিজ্য। এটি সকল ব্যবসায়ী এবং উদ্দ্যোক্তাদের আবেদনের পর দেয়া হয়ে থাকে। যারা ব্যবসা করে থাকবেন তাদের অবশ্যই জানতে হবে ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করতে হয়, এর প্রয়োজনীয়তা কি,কেন করতে হয়, কিভাবে করতে হয়, কোথায় গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

কেন ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়?

বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান- ১৯৮৩ (City Corporation Taxationrules, 1983) এর অধিনে ইস্যু করে থাকে বলে আপনার ব্যবসায়ের আইনানুগতার প্রতীক হচ্ছে এই ট্রেড লাইসেন্স। আমাদের দেশে এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী আছেন যারা ট্রেড লাইসেন্স এখনও ব্যবহার করছেন না কিন্তু তবুও দিব্বি ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এ সকল উদ্দ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা যখন জটিলতায় পড়ে যাবেন তখন ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আইনি সাহায্য পাবেন না। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে আপনার ব্যবসা অবৈধ বলে গণ্য হবে আইনের কাছে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধি। ট্রেড লাইসেন্স থাকার অর্থ হচ্ছে সরকার পক্ষ আপনাকে ব্যবসা করার জন্য অনুমতি প্রদান করেছে। 

ট্রেড লাইসেন্স করার লাভ কি?

ট্রেড লাইসেন্স বিদেশী বাজারে সহজ প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেয়। যেমন আপনি যখন বিদেশে বাজারজাতের ব্যবস্থায় প্রবেশ করবেন অথবা বিদেশী ব্যবসায়ের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে যাবেন, তখন বাধাহীন হয়ে আপনার ব্যবসায়ের প্রসার বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় বিদেশী বাজার থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। এই পদ্ধতিতে বিদেশের বাজারে প্রবেশ করা সহজ হয় এবং অর্থ প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কসের বাধা গুলি এড়ানো যায়। 

ট্রেড লাইসেন্স থাকলে আপনি আরো অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ও সুবিধা সহজেই পেয়ে যাবেন। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স থাকলে আপনি ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন। কারণ ব্যাংক ট্রেড লাইসেন্স থাকলে বুঝবে যে এই ব্যবসাটি বৈধ ব্যবসা এবং অর্থ অনুদান করা যাবে।

 

কোন জায়গা বা প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়?

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়? 

ট্রেড লাইসেন্স করতে হলে নির্ধারিত একটি ফর্মে আবেদন করতে হবে উপযুক্ত স্থানীয় সরকারের অফিসে, যেই স্থানে আপনার ব্যবসায়টি আওতাভুক্ত। এই ফর্মের সাথে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং সেগুলো কি কি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবেন।

নিম্নে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার জন্য কি কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে তার একটি তালিকা দেয়া হলো:

সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে:
দোকান ভাড়ার চুক্তি পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্সপরিশোদের এর ফটোকপি। আবেদনকারীর কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ১৫০/৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে।

 

ফ্যাক্টরির/কারখানা ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে:
পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা।
ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র।
ঢাকাসিটিকর্পোরেশন এর নিয়মকানুন মেনে চলার অঙ্গিকারনামা ১৫০/৩০০ টাকারজুডিশিয়ার স্ট্যাম্প স্বাক্ষরিত।

 

সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে:
বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র।

 

ক্লিনিক/প্রাইভেটহাসপাতালএর ক্ষেত্রে:
ডিরেক্টর জেনারেলস্বাস্থ্য, কর্তৃক অনুমতিপত্র।

 

লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে:
কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল।
সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

 

প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল এর ক্ষেত্রে:
ডেপুটি কমিশনার, কর্তৃক অনুমতিপত্র।

 

রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে:
মানবসম্পদ রপ্তানী বুর্যো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

 

অস্ত্র গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রে:
অস্ত্রের লাইসেন্স।

 

ঔষধ মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে:
ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি।

 

ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে :
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

 

 

 

ট্রেড লাইসেন্স করার ধাপ বা প্রক্রিয়া গুলো কি কি?

আপনি যদি নিজের ট্রেড লাইসেন্স নিজেই করতে চান তবে আপনাকে ধাপে ধাপে ট্রেড লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

  • উপযুক্ত অফিস খুঁজে বের করাঃ প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে যে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি কোন স্থানীয় সরকারের কোন অফিসের আওতায় পড়েছে।
  • ফর্ম সংগ্রহঃ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য দুটি ফর্ম আছে; ১) “আই ফর্ম” ও ২) “কে” ফর্ম; প্রতিটি ফর্ম এর দাম ১০ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ছোট বা সাধারণ হয়, তবে ফর্ম “আই” আর বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে  “কে” ফর্ম নিতে হয়। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংরহ করতে হবে।
  • ফর্ম, তথ্য ও দলিল জমা প্রদানঃ এই ধাপে আপনার ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য, দলিল ইত্যাদি সহ ফরমটি জমা দিতে হবে।
  • টাকা জমা প্রদানঃ এই ধাপে আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ফি ও ভ্যাট জমা প্রদান করতে হবে।
  • পরিদর্শনঃ এখানে আপনার স্থানীয় সরকারের একজম কর্মরত ও দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তি দ্বারা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবেন এবং চেক করে দেখবেন যে, ব্যবসার ধরণ, নিয়ম-কানুন, মডেল, ঠিকানা ইত্যাদি সব ঠিক আছে কিনা।
  • ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণঃ আপনার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে আপনি এই ধাপে ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।

ট্রেড লাইসেন্স করতে যা যা লাগে- 

  • ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, যদি একাধিক অংশীদার থাকেন তাহলে প্রত্যেকের তিন কপি করে ছবি লাগবে।
  • ভোটার আইডি কার্ড এর কপি এবং যে বাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে বা অফিস রয়েছে তার বাড়িওয়ালার সাথে সম্পাদিত চুক্তির ফটোকপি। যে চুক্তিটি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে করা হয়েছে।
  • আর বর্তমানে ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হয় বা সার্ভিস চার্জ এর রশিদ।

ট্রেড লাইসেন্সের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নথিগুলোর বিশদ বর্ণনা নিম্নে দেয়া হলঃ

  • আপনার ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ফরমটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
  • আপনি যদি বিদেশি হোন তবে আপনার অবশ্যই আপনার পাসপোর্টের একটি কপি দরকার।
  • মালিকানার প্রমানাদি এবং কর প্রদানের প্রাপ্তি।
  • ৩ কপি পাসপোপোর্টের আকারে ছবি (প্রস্থ,-৪৫মিমি, উচ্চতা-৫৫মিমি)।
  • আদালতের বিবৃতি, সিটি কর্পোরেশনের বিধি- বিধান মেনে চলার জন্য মুদ্রণ।
  • এসোসিয়েশন এবং মেমর‍্যান্ডাম এসোসিয়েশন এর নিবন্ধন্সমূহ ।
  • সংস্থার শংসাপত্র ।
  • অংশীদারিত্বের চুক্তিপত্র ।
  • বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ার্ক পারমিট শসাপত্র বা নথি।
  • বিবৃতি বা ব্যাংক সল্ভেন্সি ।
  • টি আই এন শংসাপত্র ।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করার প্রয়োজনীয়তা কি?

নবায়ন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও কোনো তদন্তের প্রয়োজন হয়না। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স অফিস ডিএনসিসি তে যেতে হবে।

এই ক্ষেত্রে ধাপগুলো হলোঃ

১) লাইসেন্স ১ বছরের জন্য কার্যকর থাকে, মেয়াদ শেষে ট্রেড লাইসেন্স চেক করার পরে, অফিসার একটি ডিম্যান্ড বিলে বিশদ গুলি পূরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ওই বইগুলো ফেরত দেয়। ডিম্যান্ড বিল হল চার পৃষ্ঠার বুকলেট যা ব্যাংকের আমানত স্লিপের অনুরুপ। একই তথ্য সমস্ত জায়গায় পূরণ করতে হয়, একটি প্ষ্ঠা ব্যাংকের জন্য এবং অন্যটি ব্যবসায়ের জন্য।

এবং নির্ধারিত ব্যাংকে প্রাপ্য ফী প্রদান করুন।

২) ডিমান্ড বিলের মাধ্যমে মনোনীত ব্যাংক আমানত করুন এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্সটি পুনরায় স্বচল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *